তালমাখনা: খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা এবং নিয়ম

তালমাখনা এক ধরণের লতাগুল্ম বর্ষজীবি ভেষজ উদ্ভিদ। তালমাখনার মূল ব্যাবহার্য অংশ এর বীজ, যা নিয়মিত সেবনে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শারীরিক দূর্বলতা দূর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থের উন্নতিতেও বেশ ভুমিকা রাখে। তালমাখনা বীজের রং গাঢ় খয়েরি এবং আকারে তিলের মতো দানাদার। এই উদ্ভিদ লম্বায় প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্ষজীবি উদ্ভিদ হলেও ফুল আসে সাধারণত ডিসেম্বর মাসে। ফুল সাধারণত লালচে এবং বেগুনি রঙ ধারণ করে, তবে কিছু ফুল সাদা রঙের হয়ে থাকে।তালমাখনার বীজ অনেক ধরণের রোগের উপসমে ব্যাবহৃত হয়। এছাড়াও এর পাতা ও শিকড় গনোরিয়া, জন্ডিস, বাতসহ অনেক রোগের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত হয়।

তালমাখনা
চিত্র: তালমাখনা

তালমাখনা খাওয়ার উপকারিতা

তালমাখনা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। নিচে তালমাখনা খাওয়ার আটটি উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

  • নিয়মিত তালমাখনা খেলে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তিভাব দূর হয়।
  • নিয়মিত তালমাখনা খেলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ হয় এবং কিডনির স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
  • দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয় নিয়মিত তালমাখনা খাওয়ার ফলে।যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন তারা বিভিন্ন জটিল রোগের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। আবার অনেকে নানাভাবে চেষ্টার পরেও এই সমস্যা দূর করতে পারছেননা। এক্ষেত্রে প্রতিদিন রুটিন মাফিক তালমাখনা খেলে সমস্যা দূর হবার সম্ভাবনা আছে। তবে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিনের তারা তালমাখনা খাওয়ার উপকারিতা একটু দেরিতে পাবেন। দু একদিন খেয়ে হতাশ হবেননা। নূন্যতম ৭ দিন সেবনের মধ্যেই লক্ষনীয় উপকার দেখতে পাবেন, ইনশাআল্লাহ।
  • গ্যাস্টিকের সমস্যা দূর করতেও কার্যকরী এই তালমাখনা। যাদের সবসময় গ্যাস্টিকের সমস্যা চলতেই থাকে, তারা প্রতি রাতে পরিমাণমতো তালমাখনা খেলে উপকৃত হবেন।
  • তালমাখা শরীরে হরমোনের মাত্রার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • প্রসাবের জ্বালাপোড়া দূর করতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা দুপুরে  গুরের শরবতের সাথে তালমাখনা খেলে দ্রুত উপকৃত হবেন এবং কয়েকদিনের মধ্যে প্রসাবের জ্বালাপোড়া দূর হবে।
  • তালমাখা হজমশক্তি বাড়াতেও কাজ করে। নিয়মিত তালমাখা খেলে আপনার হজম শক্তি দ্রুত বাড়বে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দূর হবে।
  • যৌন ক্ষমতা বাড়াতে তালমাখা খুবই কার্যকরী ভেষজ ওষুধ। আসলে, বেশিরভাগ মানুষই যৌন দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে তালমাখা খান (যারা এর উপকারিতা সম্পর্কে অবগত)। এক্ষেত্রে নিয়মিত সেবন করলে তালমাখার উপকার আপনিও খুব দ্রুত দেখতে পাবেন।

তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম

  • শারীরিক দূর্বলতা কাটিয়ে উঠতে প্রতিদিন সকালে এবং রাতে ৩ গ্রাম পরিমাণ তালমাখনা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে খেতে পারেন।
  • প্রসাবের জ্বলাপোড়া দূর করার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এবং দুপুরে বাহির থেকে আসার পর বিশ্রামের সময় খাবেন। এক্ষেত্রে আখের গুড়ের সাথে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পান করবেন, এতে জ্বলাপোড়া কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
  • যৌন দুর্বলতার জন্য প্রতি রাতে এক গ্লাস দুধে ৩ গ্রাম পরিমাণ তালমাখনা ভিজিয়ে রেখে পান করবেন। ঘুমানোর পূর্বে ৩ গ্রাম পরিমাণে তালমাখনা দুই/তিন চা চামচ মধুর সাথে ভিজিয়ে রাখবেন এবং সকালে খালি পেটে পান করবেন। এইভাবে যদি নিয়মিত তালমাখনা সেবন করেন তাহলে খুব ভাল ফলাফল দেখতে পাবেন। এছাড়াও যদি মধুর পাশাপাশি ১ গ্রাম পরিমাণ অশ্বগন্ধা চূর্ণ মিশিয়ে পান করেন তাহলে আরো ভালো ফল পাবেন।
  • তালমাখনা যে শুধু দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে খেলেই উপকার হবে তা মোটেও না। যদি খালি পানিতে ভিজিয়ে সেবন করেন, সেক্ষেত্রেও উপকৃত হবেন।
  • তাছাড়া তালমাখনার পাশাপাশি কাতিলা গাম খেতে পারেন। এতে আরো ভাল এবং দ্রুত ফল পাবেন।

তালমাখনা খাওয়ার অপকারিতা

তালমাখনা সঠিক পরিমাণে খেলে কোনো অপকারিতা নেই। তবে মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে তালমাখনা খাওয়ার অপকারিতা রয়েছে। যেমন:

  • তালমাখনা হরমন ও যৌনশক্তি বর্ধক হওয়ায়, মাত্রাতরিক্ত খেলে হঠাৎ হরমনের অধিক বৃদ্ধিতে নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে।
  • তালমাখনা পেটের বায়ু নিরোধোক হলেও, অতিরিক্ত সেবনে এর উল্টোটা হতে পারে, অর্থাৎ পেটের বায়ু বা গ্যাস্টিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
  • তালমাখনা আঠালো জাতীয় পদার্থ, তাই নূন্যতম ২০ মিনিট বা তার চেয়ে বেশি সময় ভিজিয়ে রেখে খেতে হবে, এর অন্যথায় পেটে অন্তক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
  • অনেকের শুকনো তালমাখনা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস দেখা যায়। নিয়মিত এরকম চলতে থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়ার প্রবণতা রয়েছে।

শেষকথা

নিয়ম মেনে এবং সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে তালমাখনা খেলে বিভিন্ন ধরণের উপকার পাওয়া সম্ভব। একারণে সতর্কতা অবলম্ব করা উচিত। বিশেষ করে শিশুদের হাতের নাগাল থেকে দূরে রাখবেন। কারণ না বুঝে শিশুরা শুকনো তালমাখনা গিলে ফেললে গলায় আটকাতে পারে এবং গিলে ফেল্লেও পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


আরো পড়ুন .......

[বি:দ্র: কাতিলা গাম শারীরিক শক্তি ও যৌন শক্তি বৃদ্ধিসহ নানাবিধ উপকার করে থাকে। যেমন: হিট স্ট্রোক, কোষ্ঠকাঠিন্য, জ্বালাপোড়া প্রভৃতি দুর করে।]

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url