সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল, গ্রেড, ভাতা এবং রেশন সুবিধা ২০২৪

সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল, গ্রেড, ভাতা এবং রেশন সুবিধা

সেনাবাহিনীকে মূলত তিন শ্রেনীতে ভাগ করা হয়েছে:

  1. N.C.O – Non Commissioned Officer (নন কমিশন্ড অফিসার)
  2. J.C.O – Junior Commissioned Officer (জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার)
  3. C.O – Commissioned Officer (কমিশন্ড অফিসার)

সৈনিক থেকে সার্জেন্টকে বলা হয় N.C.O. ওয়ারেন্ট অফিসার থেকে মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসারদের বলা হয় J.C.O এবং অনারারি লেফটেন্যান্ট থেকে জেনারেলদের বলা হয় C.O.

সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল

২০১৬ সালের বেতন কাঠামো এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের গেজেট অনুযায়ী সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল নির্ধারিত হয়। নিচে পদভিত্তিতে সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল দেয়া হয়েছে।
  • তিন বাহিনীর প্রধান, জেনারেল/ অ্যাডমিরাল/ এয়ার চিফ মার্শাল পদের বেতন ৮৬ হাজার টাকা।
  • লে. জেনারেল/ এয়ার মার্শাল/ ভাইস অ্যাডমিরাল/ পদের বেতন ৮২ হাজার টাকা।
  • মেজর জেনারেল/রিয়ার অ্যাডমিরাল/এয়ার ভাইস মার্শাল পদের বেতন ৭৮ হাজার টাকা ।
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল/ এয়ার কমডোর/ কমডোর পদের ক্ষেত্রে ৬৩ হাজার ৫৭০ টাকা।
  • কর্নেল/ক্যাপ্টেন (নৌ)/গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদের বেতন ৬১ হাজার টাকা।
  • লে. কর্নেল/কমান্ডার/উইং কমান্ডারের বেতন ৫০ হাজার টাকা।
  • মেজর/লে. কমান্ডার/স্কোয়াড্রন পদের বেতন হচ্ছে ৪৩ হাজার টাকা।
  • অনারারি ক্যাপ্টেন/ অনারারি লে. (নৌ) পদের বেতন ৪২ হাজার ৮৯০ টাকা।
  • অনারারি সাব লে. / অনারারি (সেনা) বেতন ৩৮ হাজার ৪৮০ টাকা।
  • ক্যাপ্টেন/ ফ্লাইট লে./ লেফটেন্যান্ট (নৌ) পদের বেতন ২৯ হাজার টাকা।
  • ফ্লাইং অফিসার/ লেফটেন্যান্ট (সেনা)/ সাব লে. এর বেতন ২৫ হাজার।
  • সেকেন্ড লে./ অ্যাক্টিং সাব লে. এবং পাইলট অফিসার পদের বেতন ২৩ হাজার ১০০ টাকা।
  • মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার এবং মাস্টার চিফ পেটি অফিসার পদের বেতন ২২ হাজার ৫০০ টাকা।
  • চিফ আর্টিফিসার পদের বেতন ২২ হাজার ৪০০ টাকা।
  • সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার/ সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার পদের বেতন ২২ হাজার ২৫০ টাকা।
  • ওয়ারেন্ট অফিসার এবং চিফ পেটি অফিসার পদের বেতন ২২ হাজার টাকা।
  • সার্জেন্ট ও পেটি অফিসার - ১৬ হাজার টাকা।
  • সুবেদার মেজর - ১৫ হাজার ৭০০ টাকা।
  • সুবেদারের - ১৪ হাজার ১২০ টাকা।
  • নায়েক সুবেদারের - ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
  • হাবিলদার/ কর্পোরাল/ এলএস - ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
  • নায়েক/ এবি/ এলএসি - ১০ হাজার ২০০ টাকা।
  • ল্যান্স নায়েক/ এসি-১ রিক্রুট/ ওডি - ৯ হাজার টাকা।
  • সিপাহি এবং রিক্রুট (এমওজিটি) পদের বেতন হবে ৮ হাজার ৮০০ টাকা।
উপরের উল্লেখিত বেতন হলো স্বস্ব পদে পদন্নতি অথবা নতুন নিয়োগের সময় নির্ধারিত মূল বেতন। মূল বেতনের সাথে অন্যান্য ভাতাসমূহ যুক্তহবে। মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতা, টিফিন ভাতাসহ সকল ভাতা মিলিয়ে সার্বসাকূল্যে মূল বেতনের প্রায় দ্বিগুন হয়ে থাকে। পদ এবং চাকরির বয়সের উপর ভিত্তি করে ভাতার পরিমাণ মূল বেতনের সাথে সমহারে বৃদ্ধি পাবে।

বেতন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়া প্রশ্নসমূহের উত্তর:

প্রশ্ন-১: ওয়ারেন্ট অফিসার এর বেতন কত?
উত্তর: ওয়ারেন্ট অফিসারের বেতন সর্বনিম্ন ২২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৮,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

প্রশ্ন-২: সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এর বেতন কত?
উত্তর: একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বেতন সর্বনিম্ন ২২,২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০,৪৬০ টাকা হয়ে থাকে।

প্রশ্ন-৩: মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার এর বেতন কত?
উত্তর: একজন মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার বেতন সর্বনিম্ন ২২,৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৩,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

সেনাবাহিনীর সৈনিকের বেতন কত?

উত্তর: একজন সৈনিকের সাধারণ বেতন ৯৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২১,৫০০ টাকা পর্যান্ত হয়ে থাকে। ট্রেনিং শেষে একজন সৈনিক বিভিন্ন ভাতাসহ মাসিক বেতন মূল বেতনের ডাবল পেয়ে থাকেন। অবিবাহিত হলে বাড়িভাড়া মূল বেতনের ২০% এবং বিবাহিত হলে বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪৫%। চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা। প্রতিরক্ষা ভাতা ১৫০০ টাকা। তবে এই প্রতিরক্ষা ভাতা ৫ বছর পরপর এবং পদোন্নতিতে বৃদ্ধি করা হয়। যাতায়াত ভাতা ৩০০০ টাকা।

প্রাথমিকভাবে একজন সৈনিকের সব মিলিয়ে বেতন হবে প্রায় ১৪,০০০ টাকা। এটা সকল সৈনিকের নিধারিত বেতন। এর বাহিরে যারা পাহাড়ে ডিউটিরত থাকবে তাদের জন্য মূল বেতনের ২০% হারে ভাতা প্রদান করা হবে। তাছাড়াও প্রতিটি সৈনিকের থাকা ও খাবার সম্পূর্ণ ফ্রি এবং নিজের ও পরিবারের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ফ্রি। বাংলাদেশের প্রতিটি সেনানিবাসে ১ টা করে চিকিৎসা রয়েছে। প্রতি বছরের জুলাই মাসে সৈনিকের মূল বেতনের ৫% হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : সকল ভাতা নির্ধারণ করা হয় মূল বেতনের উপর ভিত্তি করে। বেতন বাড়তে বাড়তে সর্বশেষ বেতন সীমায় পৌঁছে গেলে তারপর আর বেতন বৃদ্ধি পাবে না। এছাড়া ও ১ টি সন্তানের জন্য ৫০০ টাকা এবং ২ টি সন্তানের জন্য ১০০০ টাকা শিক্ষা ভাতা দিয়ে থাকেন। ২ টি সন্তানের উপর শিক্ষা ভাতা প্রদান করেন না।

সেনাবাহিনীর সৈনিক কত তম গ্রেড বা শ্রেনি?
সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকরা তৃতীয় শ্রেণির আওতাভুক্ত।

সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট কত তম গ্রেড?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার(সিও), জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও), নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) এবং সাধারণ সৈনিক পদবি আছে। কমিশন্ড অফিসাররা প্রথম শ্রেণীর সেনা সদস্য, জেসিওরা প্রথম শ্রেণী (নন-ক্যাডার) সদস্য এবং এনসিও-দের মধ্যে সার্জেন্ট পদবিধারিরা দ্বিতীয় শ্রেণীর ও বাকি এনসিওরা তৃতীয় শ্রেণীর সদস্য হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোট সংখ্যা কত?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থল শাখা। সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সর্ববৃহৎ শাখা। সেনাবাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষাকরা সহ সব ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করা এবং প্রতিরক্ষার সহায়তায় প্রয়োজনীয় শক্তি ও জনবল অনুপূরণ করা। সেনাবাহিনীর সকল ধরনের কর্মকাণ্ড সমূহ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর দ্বারা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রাথমিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্টের যেকোন জরুরি প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য সাংবিধানিক ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সেনাবাহিনীর রেশন সুবিধা

সেনাবাহিনীর রেশন সুবিধা চাকরিতে স্থায়ি হওয়ার পর শুরু হয় (বিবাহিত হতে হবে)। সাধারণ সৈনিক থেকে উর্ধতন পদের সবাই সমপরিমাণে রেশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। নিচে সেনাবাহিনীর রেশনের পরিমাণ দেয়া হয়েছে:
  • স্বামী-স্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ২ সন্তান অর্থাৎ মোট ৪ জনের জন্য সেনাবাহিনীর রেশন সুবিধা পাবেন।
  • অবিবাহিত হয়ে থাকলে কোনো রেশন পাবেননা।
  • কোনো সন্তান না থাকলে অর্থাৎ শুধু স্বামী-স্ত্রী হলে প্রতি মাসে ২৫ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, চা পাতা ৪০০ গ্রাম, লবণ ১.৫ কেজি।
  • স্বামী-স্ত্রী ও এক সন্তানসহ মোট তিন সদস্য হলে ৩০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ৫ কেজি ডাল, ৬ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, চা পাতা ৬০০ গ্রাম এবং লবণ ২ কেজি পেয়ে থাকেন।
  • স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চার সদস্যের জন্য মাসে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ৮ লিটার তেল, ৫ কেজি চিনি, চা পাতা ৮০০ গ্রাম এবং লবণ ২.৫ কেজি পেয়ে থাকেন।
  • রমযান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় আরো পণ্য সামগ্রী পাবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য অবসরে গেলে রেশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে খাবার ভাতা চালু থাকবে। খাবার ভাতা হিসেবে প্রায় ১১,০০ (এগারোশ) টাকা পাবেন যদি স্বামী-স্ত্রীর উভয়েই জীবিত থাকেন, অন্যথায় অর্ধেক পাবেন। চাকরিরত অবস্থায় যদি কোনো সন্তানের খাবার ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে উক্ত সন্তানের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত খাবার ভাতা পাবেন। ১৮ বছর পেরিয়ে গেলে আর পাবেননা, তবে স্বামী-স্ত্রীর ভাতা আমৃত্যু বহাল থাকবে।

আরো পড়ুন.....

Next Post Previous Post